আমতলীতে আউশ ধানের ফলন বিপর্যয়; বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসানে কৃষক | আপন নিউজ

রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেন কলাপাড়ায় গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ এর নতুন কমিটি গঠন উত্তর চাকামইয়া মানবিক সোসাইটির ঈদ উপহার বিতরণ গাছের সাথে বেঁ’ধে পিটু’নি: কলাপাড়ায় প্রাণ গেল মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের রাঙ্গাবালীতে বিএনপি’র দুই পক্ষের মধ্যে সং’ঘ’র্ষ: আ’হ’ত-১৫ তালতলীতে জমি দ’খ’ল করতে শতাধিক ভাড়াটিয়া স’ন্ত্রা’সী বা’হিনী এনে ঘর নির্মাণ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অনুদান পেল আমতলীর ১৬৫ পরিবার কুয়াকাটায় ঈদ উপলক্ষে ৫ হাজার নারীর মাঝে শাড়ি বিতরণ করলেন সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ার সংবাদ প্রকাশের জেরে কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হ’ত্যা’র হু’ম’কি, থানায় জিডি
আমতলীতে আউশ ধানের ফলন বিপর্যয়; বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসানে কৃষক

আমতলীতে আউশ ধানের ফলন বিপর্যয়; বাজারে ধানের দাম কম থাকায় লোকসানে কৃষক

আমতলী প্রতিনিধিঃ অনাবৃষ্টি ও ভারি বৃষ্টিতে আমতলীতে এ বছর আউশ ধানের ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ফলন কম হয়েছে। বাজারে উৎপাদিত ধানের দাম কম থাকায় হতাশ কৃষকরা। কৃষকরা জানান, ফলন কম ও বাজারে ধানের মুল্য কম থাকায় বেশ কয়েকগুন লোকসান গুনতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিসা সুত্রে জানাগেছে, এ বছর উপজেলায় আউশ ধান আবাদের লক্ষমাত্রা ছিল ১০ হাজার হেক্টর জমিতে। ৯ হাজার ৯’শ ৬০ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ৪০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ কম হয়েছে। চাষের শুরুতে অনাবৃষ্টি এবং ধান বের হওয়ার সময় ভারি বৃষ্টির কারণে আউশ উৎপাদন কম হয়েছে।

কৃষি অফিস জানান,গত বছর হেক্টর প্রতি সাড়ে তিন টন আউশ ধান উৎপাদন হয়েছে। সেখানে এ বছর তিন টন ধান উৎপাদন হয়েছে। আউশের এমন উৎপাদন বির্পযয়ের জন্য তারা অনাবৃষ্টি ও ভারি বৃষ্টিকে দায়ী করেছেন।

কৃষকরা জানান, বৈশাখ থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত আউশ ধান রোপন করে। এ বছর কৃষকরা বিরি – ৪৮ ও বিরি- ২৭ দুই জাতের ধান রোপন করেছে। হেক্টর প্রতি তিন থেকে সারে সাড়ে টন ধান উৎপাদন হতো। এ বছর ওই জমিতে হেক্টর প্রতি আড়াই টনের কম ধান উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে কৃষকরা ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। বাজারে প্রতিমণ ধান ৮৪০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, এক মণ ধান উৎপাদন খরচ বর্তমান বাজার মুল্যের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে।

শুক্রবার উপজেলার চাওড়া, আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, কুকুয়া ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ধান কাটা ও মাড়াই কাজে ব্যস্ত কৃষক ও কৃষাণীরা। মাড়াই করেই তারা ধান সরাসরি বাজারে নিচ্ছেন কৃষকরা।

চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের কৃষক জিয়া উদ্দিন জুয়েল বলেন, তিন বছর ধরে জমি আবাদ করিনি। এ বছর ভালো লাভের আশায় আউশ ধান আবাদ করেছিলাম কিন্তু তেমন ধান হয়নি। ১২০ শতাংশ জমিতে মাত্র ৩০ মন ধান পেয়েছি। তাতে ১৫ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা কৃষক সোহেল রানা বলেন, ৩২ হাজার টাকা খরচ করে দুই একর জমিতে আউশ ধান আবাদ করেছিলাম কিন্তু তেমন ধান হয়নি। ৮৪০ টাকা মণ দরে মাত্র ২৪ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় এ বছর খরচও উঠেনি।

ধান ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ফলন কম হওয়ায় এ বছর বাজারে কম ধান আসছে। তিনি আরো বলেন, বাজারে ধানের দামও কম। প্রতিমণ ধান ৮৪০ থেতেক ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার ঈশা বলেন, লক্ষমাত্রা প্রায়ই অর্জিত হয়েছে। তবে আবাদের শুরুতে অনাবৃষ্টি ও ফসল বের হওয়ায় সময় ভারী বর্ষণে ধান কিছুটা কম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাজারে ধানের দাম আরো থাকলে কৃষক লাভবান হতো।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!